কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫ এ ০৫:৪৬ PM
“জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) স্থানীয়করণে বাস্তবায়নযোগ্য মডেল তৈরী” বিষয়ক প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্প
কন্টেন্ট: প্রকল্পপ্রকল্পের ধরন: (নেই)
প্রায়োগিক গবেষণার শিরোনাম:জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) স্থানীয়করণে বাস্তবায়নযোগ্য মডেল তৈরী বিষয়ক প্রকল্প
প্রকল্পের/ প্রায়োগিক গবেষণার পটভূমি:
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নে সফলতা আনয়নের জন্য টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহের স্থানীয়করণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাতিসংঘের এসডিজির নথিপত্রে স্থানীয়করণ বিষয়টির উপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট স্থানীয়করণ বলতে একটি দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঞ্চল (যেমন: বাংলাদেশে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম এবং শহর) পর্যায়ে এসডিজি বাস্তবায়ন করা। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট একটি বৃহৎ কর্মকান্ড। সরকার বা কারো একার পক্ষে বা অল্প কয়েকটি গোষ্ঠী বা সংস্থার সহায়তা নিয়ে এই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিকভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ এই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন করতে হলে দেশের সকল জনগণ, সব ধরণের প্রতিষ্ঠান (সরকারী-বেসরকারী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন) ও উন্নয়ন সহযোগী সকলকেই এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। সে কারণে এসডিজির দলিলপত্রে জাতীয় এবং আঞ্চলিক/স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরীর উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট অর্জনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অংশীজনের অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়, মাঠ পর্যায়ের সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, স্থানীয় সরকার, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির পাশাপাশি তৃণমূলের জনগণ হচ্ছে এর মূল অংশীজন। দেশের সকল মানুষ এসডিজি সম্পর্কে যত বেশী জানবে, যত বেশী সচেতন হবে, দেশের বা এলাকার উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণ তত বাড়বে এবং এসডিজি অর্জন সহজ হবে। কারণ, জনঅংশগ্রহণে উন্নয়ন অনেক বেশী ত্বরান্বিত হয় এবং টেকসই হয়। তাই এসকল মহৎ ও বৃহৎ উন্নয়ন কর্মকান্ডে জনঅংশগ্রহণ বাড়াতে এই বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরীর উপর গুরুত্ব দিতে হবে। জনসচেতনতার মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনায় ও বাস্তবায়নে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয়করণের জন্য স্থানীয় সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকারগুলোকে প্রতিফলিত করে বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করে স্থানীয় সরকারগুলোকে কার্যকর করতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। উন্নয়ন কর্মসূচি ও প্রকল্পগুলোর জন্য উপযুক্ত তহবিল এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর প্রয়োগও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
এসডিজি স্থানীয়করণের অর্থ হল- স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমস্যা চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে সমাধান করা। যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান স্থানীয় চাহিদা ও সক্ষমতা সর্বোত্তম জানেন, এসডিজি বাস্তবায়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই স্থানীয় পর্যায়ের জনগণের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া বিভিন্ন জেলা বা উপজেলা কোন কোন বিষয়ে পিছিয়ে আছে বা কোন কোন জনগোষ্ঠীর বিশেষ সহযোগিতা প্রয়োজন, তা স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন রয়েছে। কারণ জেলা এবং উপজেলাগুলো যেসব বিষয় চিহ্নিত করবে সেগুলো একান্তই শুধু সে এলাকার জন্য প্রযোজ্য। এসডিজি স্থানীয়করণে বিশ্বব্যাপী উদ্যোগে দেশগুলো ১৭টি গোল অর্জনে সম্মত হলেও, ২৩০টি সূচকের মধ্যে নিজ দেশের উন্নয়ন প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে জাতীয় অগ্রাধিকার সূচক চিহ্নিত করেছে। যেমন বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রয়োজনীয়তা, অগ্রাধিকার এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতার দিকে নজর রেখে সরকার এসডিজির জাতীয় অগ্রাধিকার সূচক হিসেবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসডিজি স্থানীয়করণ প্রক্রিয়ায় ৩৯+১ টি সূচক চিহ্নিত করেছে। এই ৩৯টি সূচক যেমন :দারিদ্র্য, অতিদারিদ্র্য, খর্বাকৃতি শিশু, আবাদযোগ্য জমি, শিশুমৃত্যু, ৫ বছরের কম বয়সী মৃত্যু, মাতৃমৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা অর্জন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ, নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, সর্বজনীন শিক্ষা, বাল্যবিয়ে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর সম্পৃক্ততা, পানি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বেকারত্ব, সড়ক সংযোগ, শিল্পক্ষেত্রের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন আয়ের অনুপাত, পরিকল্পিত অভিবাসন ব্যয়, মহিলা, শিশু এবং বৃদ্ধদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন, শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি, সামুদ্রিক সম্পদ, বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন, জন্মনিবন্ধন, মানবাধিকার, ইন্টারনেট সংযোগ ইত্যাদি নির্বাচন করা হয়েছে, যা আমাদের দেশের স্থানীয় উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৩৯ + ১ এর বাকি একটিতে 'কাউকে পেছনে ফেলে নয়'-এর আওতাভুক্ত। এই বিষয়টি জনগণের জানা প্রয়োজন। তাদেরকে সাথে নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম নেয়া হলে সফলতা আসবে।
সরকার বরাবরই গ্রামকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির কেন্দ্রীয় দর্শন হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে। দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও নগর ও গ্রামের মধ্যে এখনও বৈষম্যতা বিরাজমান। বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে যেসকল পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তা হচ্ছে; উল্লেখযোগ্য হলো- উন্নত যোগাযোগ, সুপেয় পানি, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুচিকিৎসা, মানসম্পন্ন শিক্ষা, উন্নত পয়নিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, কম্পিউটার ও দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মানসম্পন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রামীন এলাকাগুলোকে আধুনিক শহরের সব সুবিধাদির ব্যবস্থা করা। গ্রামে শহরের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
প্রকল্পের/ প্রায়োগিক গবেষণার মূল উদ্দেশ্য:
প্রায়োগিক গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হলো পল্লী অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট স্থানীয়করণের জন্য কাঠামো প্রণয়ন।
প্রকল্পের বিশেষ উদ্দেশ্যগুলো হলো:
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট সম্পর্কে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরী;
গ্রাম বা ওয়ার্ড বা ইউনিয়নের জন্য সকল জনগণের মতামতের ভিত্তিতে এলাকার এসডিজি অগ্রাধিকার সূচকসমূহ নির্ণয় এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক এসডিজি লক্ষ্যসমূহকে উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রাধান্য প্রদানে উদ্বুদ্ধ করা;
উন্নয়ন কার্যক্রম চিহ্নিতকরণ ও বাস্তবায়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে জনঅংশগ্রহণের ধরণ (ব্যক্তিশ্রম, অর্থ, অন্যান্য সম্পদ) চিহ্নিতকরণ।
প্রকল্পের/প্রায়োগিক গবেষণার মূল কম্পোনেন্টসমূহ:
এসডিজি লক্ষ্য সমূহ যেমন- গোল ০২- ক্ষুধা মুক্তি, গোল ০৩-সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ, গোল ০৪- মানসম্মত শিক্ষা, গোল ০৬- সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গোল ০৮- শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং গোল ১২-পরিমিত ভোগ ও উৎপাদন ইত্যাদির বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট স্থানীয়করণের জন্য তথ্যভান্ডার তৈরী।
জনসচেতনা ও জনসম্পৃক্ততা তৈরীর জন্য এসডিজির সংশ্লিষ্ট গোল ও লক্ষ্য বিষয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড সভা, প্রশিক্ষণ ও বৈঠক এর ম্যানুয়াল তৈরী ও ডকুমেন্টেশন। ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পৃক্ত করে ওয়ার্ড সভা সংগঠনের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরী।
এসডিজি ধারণাকে কার্যকর করার জন্য একটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য উক্ত এলাকার মানুষকে সম্পৃক্ত করে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত মেম্বারদের মাধ্যমে তাঁদের চাহিদার ভিত্তিতে পরিকণ্পনা প্রণয়ন, ছোট ছোট প্রকল্প তৈরীতে সক্ষমতা তৈরী ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান।
প্রকল্প এলাকা
কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলাকে এই প্রায়োগিক গবেষণার এলাকা হিসেবে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে, সদর দক্ষিণ উপজেলাকেও প্রায়োগিক গবেষণা এলাকা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গ্রামীণ উন্নয়নে প্রকল্পের/প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রমের প্রভাব ও গুরুত্ব:
বিভিন্ন জাতিগঠনমূলক সংস্থা, এনজিও, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ এর এসডিজি বাস্তবায়ন বিষয়ক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অবস্থাইত্যাদি বিষয়ে সংগৃহীত তথ্যের আলোকে দেখা যায় যে অধিকাংশ সংস্থা এসডিজি বাস্তবায়ন বা স্থানীয়করণে পৃথক কোন প্রকল্প বা কর্মসূচী গ্রহণ করেনি। চলমান কার্যক্রম বা প্রকল্পের মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে। উপজেলায় এসডিজি বাস্তবায়ন বা স্থানীয়করণে কোন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়নি। পরিকল্পনা না থাকায় আলাদা কোন বাজেটও বরাদ্দ রাখা হয়নি। তাছাড়া, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এসডিজি বিষয়ক সচেতনতা তৈরী হয়নি বা এ বিষয়ে তারা যথেষ্ট অবগত নয়। তার ফলশ্রুতিতে এসডিজি বাস্তবায়ন বা স্থানীয়করণে কোন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়নি। বাজেটে এ বিষয়ে বরাদ্দ রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। সেজন্য ওয়ার্ডভিত্তিক কোন এসডিজি প্রাধিকারও নেই। এসকল বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে-
২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায়োগিক গবেষণাটি উদ্যোগে ০২ টি ওয়ার্ডে ০২টি ওয়ার্ড কর্মশালা বাস্তবায়ন করা হয়। কর্মশালায় বিভিন্ন পর্যায়ের নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। সেখানে এসডিজি বিষয়ক সচেতনতা, চাহিদা, প্রাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে প্রাধিকার চাহিদা চিহ্নিত করা হয়।
কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম ও সদর দক্ষিন উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের জন্য ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) স্থানীয়করণে ইউনিয়ন পরিষদ’ বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজন করা হয়। এতে চেয়ারম্যানগণ অংশগ্রহণ করেন। এই প্রশিক্ষণের মুল উদ্দেশ্য ছিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহের স্থানীয়করণ সম্পর্কে তাদের ভূমিকা ও করণীয় বিষয়ে সম্যক ধারণা প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন।
“বাজার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। এই কোর্সের লক্ষ্য হল- স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরি করা; যারা বাজারের বর্জ্য সংগ্রহ করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব ট্রাইকো কম্পোস্ট সার উৎপাদন করবে ও ব্যবসার বিকাশ ঘটাবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশের সুরক্ষা হবে, অন্যদিকে আয় ও কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ফলে, এসডিজি অভীষ্ট অর্জিত হবে।