মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৯ এপ্রিল ২০২০

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) কর্তৃক গৃহীত ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও যৌথ খামার ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পে কম্বাইন হারভেস্টার-এর মাধ্যমে ধান কাটা কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন


প্রকাশন তারিখ : 2020-04-27

আজ ২৭ এপ্রিল ২০২০ লাকসাম উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামে আধুনিক যন্ত্রনির্ভর ও কমিউনিটি ভিত্তিক যৌথ চাষ পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষিকে লাভজনক করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) কর্তৃক গৃহীত ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও যৌথ খামার ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পে কম্বাইন হারভেস্টার-এর মাধ্যমে ধান কাটা কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়। লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নে বাস্তবায়নাধীন এ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের ধান কাটা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন লাকসাম উপজেলার সম্মানিত উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট আলহাজ্ব মোঃ ইউনুছ ভূইয়া।  

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করে আধুনিক চাষ ব্যবস্থা প্রবর্তণের মডেল উদ্ভাবনের লক্ষ্যে এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিতে খন্ড খন্ড ১৪১টি জমিকে ডিজিটাল ভূমি জরিপের মাধ্যমে আইল উঠিয়ে দিয়ে বৃহদাকার ১৫ টি জমিতে একই জাতের (ব্রি ধান-৭৪) ধান চাষ করা হয়েছে। চাষাবাদ পরিচালনা করা হচ্ছে কৃষকদের নিয়ে গঠিত একটি “সমাজভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ” এর মাধ্যমে। স্থানীয় কৃষক, জমির মালিক, বর্গা চাষিদের সমন্বয়ে গঠিত ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে এন্টারপ্রাইজটি পরিচালিত হচ্ছে এবং স্থানীয় কৃষক, শ্রমিকদের ব্যবহার করে ফসল চাষাবাদের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বার্ড, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস এবং স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এডভোকেট আলহাজ্ব মোঃ ইউনুছ ভূইয়া বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সারা বিশ্ব একটি সংকটের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস)-এর সংক্রমণের ফলে সামনের দিনগুলোতে চরম খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, যথাসময়ে পর্যাপ্ত শ্রমিকের সংকট থাকায় যন্ত্রনির্ভর এই প্রকল্পটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী ধান কর্তন ও মাড়াইয়ের ক্ষেত্রে আধুনিক কৃষি যন্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের ঘরে ধান পৌঁছে যাবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ জনাব মোঃ তাজুল ইসলাম এর নির্দেশনায় এ ধরনের কৃষকবান্ধব সময়োপযোগী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তিনি বার্ড কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।’  

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাকসাম পৌরসভার সম্মানিত মেয়র জনাব মোঃ আবুল খায়ের। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.কে এম সাইফুল আলম, বার্ডের প্রকল্প বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জনাব আবদুল্লাহ আল মামুনসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অনুষদ সদস্যবৃন্দ, উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ রেজাউল হক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।   

মেয়র জনাব মোঃ আবুল খায়ের বলেন, ‘সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে সরকারের সব ধরণের ভর্তুকীর পরও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যয্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে কৃষির উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের উপায় উদ্ভাবন অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়ে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার করে এবং যৌথ খামার প্রতিষ্ঠার ফলে ফসল উৎপাদন খরচ প্রায় ত্রিশ ভাগ হ্রাস পেয়েছে এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার বিশ্বাস, পরীক্ষামূলক এ প্রকল্পটি একটি উন্নয়ন মডেল হিসাবে দাঁড়াবে এবং কৃষিতে আরেকটি নতুন বিপ্লব সূচিত হবে।’

লাকসাম উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.কে এম সাইফুল আলম বলেন, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনায় বার্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পটি কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এ ধরণের প্রকল্প বাংলাদেশের প্রত্যেকটি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ রেজাউল হক বলেন, কমিউনিটি এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে বড় আকারের জমিতে একই জাতের ফসল চাষ করার ফলে উৎপাদন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়েছে। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে যন্ত্রের সাহায্যে চারা রোপন ও সঠিক পরিচর্যার ফলে এ প্রকল্পে হেক্টর প্রতি সাড়ে ৬ টন (৬,৫০০ কেজি) হারে প্রায় ৪০ একর জমিতে ১০৭ টন (১,০৭,০০০ কেজি) ধান উৎপাদিত হয়েছে, যা চলতি বোরো মৌসুমে লাকসাম উপজেলায় সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড। 

বার্ডের কৃষি ও পরিবেশ বিভাগের পরিচালক জনাব আবুল কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে বার্ডের অভিজ্ঞ অনুষদ সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল ভুমি জরিপের মাধ্যমে লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের নোয়াপাড়া ও ছনগাঁও গ্রামের যৌথ খামার প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী ৭৫ জন কৃষকের ৪০ একর কৃষিজমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচিত ৪০ একর কৃষিজমির ১৪১টি প্লটের আইল উঠিয়ে একত্র করে বোরো মৌসুমে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধান রোপন করা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে বার্ড, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়, লাকসাম এবং নোয়াপাড়া-ছনগাঁও যৌথ কৃষি খামার কমিউনিটি এন্টারপ্রাইজের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।  চুক্তির আওতায় বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ বার্ড কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল ধানবীজ, কৃষিযন্ত্র সহায়তা এবং যৌথ খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। যৌথ খামারের জমির মালিকগণ কমিউনিটি এন্টারপ্রাইজ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষিকাজ পরিচালনা করছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিস সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে বাস্তবায়নাধীন এ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ জনাব মোঃ তাজুল ইসলাম।

সারাদেশের কৃষক যখন ধান কাটা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছেন তখন লাকসামের কৃষকের মুখে হাসি ফিরিয়েছে বার্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও যৌথ খামার ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্প। পরীক্ষামূলক এ প্রকল্পটি কৃষিক্ষেত্রে একটি সফল মডেল হিসেবে সারাদেশে কৃষকদের দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।  

 



Share with :

Facebook Facebook