মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৭ অক্টোবর ২০২০

বার্ড প্রদর্শনী মৎস্য খামার প্রকল্প

প্রায়োগিক গবেষণার শিরোনাম       :  “বার্ড প্রদর্শনী মৎস্য খামার প্রকল্প”

বাস্তবায়নকারী সংস্থা

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)

বাস্তবায়নকাল 

জুলাই ২০২০ - জুন ২০২১

বাজেট

১৯.০০ লক্ষ টাকা

অর্থায়নের ধরণ ও উৎস

বার্ড রাজস্ব বাজেটের আওতায় পরিচালিত

প্রকল্প পরিচালক/পরিচালকবৃন্দের নাম ও পদবী

জনাব আনাস আল ইসলাম, সহকারী পরিচালক, বার্ড

জনাব ফারুক হোসেন, সহকারী পরিচালক, বার্ড

 

প্রায়োগিক গবেষণার পটভূমি

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও রপ্তানি আয়ে মৎস্য খাতের অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। দেশের ১৪ লাখ নারীসহ প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে মাছের উৎপাদন ছিল প্রায় ৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন, যেখানে ২০০৮-০৯ সালে মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২৭.০১ লক্ষ মেট্রিক টন এবং ১৯৮৩-৮৪ সালে মাছের উৎপাদন ছিল মাত্র ৭.৫৪ লক্ষ মেট্রিক টন। অর্থাৎ, ৩৫ বছরের ব্যবধানে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ছয় গুণ।  গত তিন দশকে দেশে মাছ চাষে নীরব বিপ্লব সাধিত হলেও গুণগত মানসম্পন্ন পোনার দুষ্প্রাপ্যতা এবং মাছের খাদ্য উপাদানের দুর্মূল্যের কারণে মৎস্য চাষীরা লাভবান হতে পারছে না। এক্ষেত্রে মৎস্য চাষি/নার্সারি অপারেটরগণ উন্নততর পদ্ধতিতে আশানুরূপ ফল লাভের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যথাসময়ে সঠিক আকার ও কাঙ্ক্ষিত প্রজাতির সুস্থ, সবল উন্নত মানের পোনার দুষ্প্রাপ্যতা মাছ চাষে ভালো ফল লাভের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষিতে মানসম্পন্ন পোনা উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিভিন্ন প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। বার্ড ক্যাম্পাসে অব্যবহৃত মজা পুকুরগুলো চাষের আওতায় নিয়ে এসে প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে গূণগত মানের পোনার চাহিদা পূরন করা হচ্ছে। এর ফলে গ্রামীন বেকার সমস্যার সমাধান, চাষিদের আয় বাড়ানো, মজুদ পুকুরে ভাল মানের পোনার চাহিদা পূরন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, পারিবারিক শ্রম সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে।   

প্রায়োগিক গবেষণার মূল উদ্দেশ্য :

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যসমূহ হল-

ক) বার্ড ক্যাম্পাসে মাছ চাষের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন একটি প্রদর্শনী মৎস্য খামার গড়ে তোলা;

খ) গুণগত মানসম্পন্ন মৎস্য বীজ উৎপাদন ও সুফলভোগীদের মাঝে বিতরণ করা; এবং

গ) মৎস্যচাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারিক পাঠদান।

প্রকল্পের/প্রায়োগিক গবেষণার মূল কম্পোনেন্টসমূহ :

  1. আধা-নিবিড় ও নিবিড় মৎস্যচাষ প্রযুক্তি ব্যবহার ও প্রদর্শন;
  2. মজুদ-পূর্ব ব্যবস্থাপনা, রেণু পোনা মজুদ ও মজুদ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা;
  3. চারা পোনা উৎপাদন ও উৎপাদিত পোনা কৃষক পর্যায়ে বিপণন;
  4. টেলিফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মৎস্যচাষীদের পরামর্শ সেবা প্রদান;
  5. বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ; এবং
  6. মৎস্য চাষে আগ্রহী কৃষকদের আধুনিক মৎস্যচাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা।

 

গ্রামীণ উন্নয়নে প্রকল্পের/প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রমের প্রভাব ও গুরুত্ব :  (সচিত্র বর্ণনা)

  1. মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিঃ সুফলভোগীদের মাঝে উন্নত জাতের মাছের পোনা বিতরণের ফলে প্রকল্প এলাকায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চাষীদের মধ্যে উন্নত জাতের পোনা মজুদের আগ্রহ অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে মৎস্যচাষী/উদ্যোক্তাগণ মৎস্য নার্সারী স্থাপন এবং বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। 
  2. বিজ্ঞানসম্মত মৎস্যচাষ পদ্ধতির সম্প্রসারণঃ মৎস্যচাষীরা বিজ্ঞানসম্মত মৎস্যচাষের কারিগরী দিকসমূহ আয়ত্ত করতে পারলে মৎস্যচাষে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি/ঝুঁকি মোকাবেলা করে অধিক মুনাফা অর্জন সম্ভব হবে। বার্ড প্রদর্শনী মৎস্য খামারে প্রতি বছর সহস্রাধিক প্রশিক্ষণার্থী এবং উদ্যোক্তাগণকে কারিগরী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
  3. খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাঃ মাছ একটি উৎকৃষ্ট প্রাণিজ আমিষের উৎস। গ্রামে গৃহস্থালী পর্যায়ে মাছচাষের ফলে খাদ্য তালিকায় প্রাণিজ আমিষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবারের পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন সহজ হবে।
  4. কোভিড-১৯ মহামারী এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিঃ বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এ সকল কর্মহীন মানুষ এখন কৃষিকাজের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। কর্মহীন এ সকল মানুষের জীবিকা নির্বাহের জন্য মৎস্যচাষ একটি নির্ভরযোগ্য উপায় হতে পারে।  



Share with :

Facebook Facebook