মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২২nd ফেব্রুয়ারি ২০২১

কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিষয়ক প্রকল্প

প্রায়োগিক গবেষণার নাম ও পরিচিতি

প্রায়োগিক গবেষণার শিরোনাম

:

কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিষয়ক প্রকল্প

উদ্যোগী মন্ত্রণালয়/বিভাগ

:

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ

বাস্তবায়নকারী সংস্থা

:

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি

বাস্তবায়নকাল

:

জুলাই ২০২০-জুন ২০২২

বাজেট

:

১০ লক্ষ টাকা

অর্থায়নের ধরণ ও উৎস

:

বার্ড রাজস্ব বাজেটের আওতায় পরিচালিত

প্রকল্প পরিচালক/পরিচালকবৃন্দের নাম ও পদবী

:

আবদুল্লাহ আল হুসাইন, উপ-পরিচালক, বার্ড

কামরুল হাসান, সহকারী পরিচালক বার্ড

 

প্রায়োগিক গবেষণার পটভূমি:  

বাংলাদেশে যে কয়টি শিক্ষার ধারা প্রচলিত আছে তন্মধ্যে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা প্রাচীনতম। 18৬৬ সালে দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে কেবলমাত্র বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার অধীনেই প্রায় 14 হাজার কওমী মাদ্রাসা নিবন্ধিত আছে। এর বাইরেও আরো কয়েকটি বোর্ডের অধীনে কাছাকাছি ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত আছে। বর্তমানে সারাদেশে কওমী মাদ্রাসাসমূহে প্রায় ১৫ লক্ষ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। সুদূর অতীত কাল থেকেই কওমী মাদ্রাসাগুলো সরকারের কাছে থেকে কোনোরূপ সাহায্য সহযোগিতা ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছে। সরকারের শিক্ষানীতি কিংবা আর্থিক আওতার বাহিরে থাকায় কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাক্রম ও সনদ দীর্ঘকাল ধরে সরকার কর্তৃক স্বীকৃত ছিল না। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় অতি সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে কওমী মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওয়ায় হাদিসকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির সমতা প্রদান করা হয়েছে। কওমী মাদ্রাসাগুলো স্বচ্ছল পরিবারের সন্তানদের পাশাপাশি অস্বচ্ছল পরিবার থেকে আগত দুস্থ ও ইয়াতিম শিশুদের খাদ্য, বন্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং সর্বোপরি শিক্ষার মত মৌলিক চাহিদাগুলো বিনা পয়সাতে প্রদানের মাধ্যমে অনেক বড় একটি সামাজিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। পিতৃমাতৃহীন অসহায় এসব শিশুদের কওমী মাদ্রাসায় স্থান না হলে দেশে ছিন্নমূল ও পথশিশুর সংখ্যা অনেক বেড়ে যেত।  

এটি অনস্বীকার্য যে, কওমী মাদ্রাসা থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান এখনো অনেক সীমিত। মাদ্রাসার শিক্ষকতা, মসজিদের ইমাম/মুয়াজ্জিনের চাকুরীর পাশাপাশি অনেকেই ব্যবসা কিংবা আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত আছেন। কেউ কেউ কৃষি কাজ করছেন কিংবা অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। গবেষণায় দেখা গেছে দেশে যত কওমী মাদ্রাসা আছে তার শতকরা দশভাগেরও কম মাদ্রাসায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাসিদ বিষয়ে পড়াশুনার সুযোগ আছে। তাছাড়া ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত পড়াশোনা করতে অপারগ কিংবা করছেন না। কাজেই কওমী মাদ্রাসার শিক্ষর্থীদের একটি বড় অংশই কিছুদূর পড়াশোনা করে কর্মে নিয়োজিত হয়ে পড়ছেন। যেহেতু তাদের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেই, সেহেতু তারা অনুষ্ঠানিক কোন খাতে কর্মে নিয়োজিত হতে পারছেন না। আবার দেশে এখন পর্যন্ত কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি বা দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোন পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। কারিগরি কিংবা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে কওমী মাদ্রাসা থেকে পাশকৃত অথবা কিছুটা পড়াশেনা করেছে এমন কোন শিক্ষার্থীরাও দক্ষ কর্মী হিসেবে চাকুরী কিংবা সকর্মে নিয়োজিত হতে পারেন। দীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি তাঁরা প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মী হিসেবে কর্মে নিয়োজিত হয়ে সমাজ ও দেশের সেবা করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু দেশে বর্তমানে কওমী মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত, ঝড়ে পড়া কিংবা পাশকৃতদের জন্য সরকারি/বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানে কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই। যেহেতু এসব প্রশিক্ষণ নিতে স্বীকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠান হতে 8ম কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে মাধ্যমিক (এস.এস.সি) পাশের সনদ লাগে, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পক্ষে সেটি সম্ভব নয়। কিন্তু কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহের কিছু কিছু কোর্স/ট্রেডের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,  এসব প্রশিক্ষণ যে কোন মাধ্যম/প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরাই গ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রচলিত সরকারী নীতির কারণে চাইলেও কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এসব প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি করতে পারবে না। অথচ সরকারী নীতিতে সামান্য পরিবর্তন আনলে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। 

বর্ণিত প্রেক্ষপটে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) কাওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সরকারি/বেসরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণের প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে “কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিষয়ক প্রকল্প” শীর্ষক পরীক্ষামূলক একটি প্রকল্প (প্রায়োগিক গবেষণা) হাতে নিয়েছে। পরীক্ষামূলক প্রকল্পটির মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার কিছু মাদ্রাসা থেকে নির্বাচিত প্রশিক্ষিত শিক্ষার্থীদের আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলতে কিংবা বার্ডের সহযোগিতায় কর্মে নিয়োজিত হতে সাহায্য করা হবে। পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি সফল হলে সমগ্র দেশে এটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

প্রায়োগিক গবেষণার মূল উদ্দেশ্য:

প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে কাওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের সাবলম্বী হতে সহায়তা করা।

প্রায়োগিক গবেষণার সুনিদিষ্ট উদ্দেশ্যসূহ নিম্নরূপ:  

01।    কাওমি মাদ্রাসা থেকে সদ্য পাশকৃত, অধ্যয়নরত কিংবা আর পড়াশোনা করতে পারছেনা এমন অস্বচ্ছল এবং আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা।  

02।    প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষর্থীদের আত্নকর্মসংস্থানে নিয়োজিত হওয়ায় সহায়তা করা।

03।    বার্ডের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি সেবা প্রদান কেন্দ্র (Service Providing Centre) গড়ে তুলে সেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।   

প্রায়োগিক গবেষণার কম্পোনেন্ট সমূহ:

  1. কাওমি মাদ্রাসা থেকে সদ্য পাশকৃত, অধ্যয়নরত কিংবা আর পড়াশোনা করতে পারছেনা এমন অস্বচ্ছল এবং আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সরকারি/বেসরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ট্রেডে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান (পিতামাতাহীন কিংবা অসহায় শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে)।
  2. প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সেবা প্রদান কেন্দ্র (Service Providing Centre/ Platform) গড়ে তুলে কুমিল্লা মহানগর এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বাড়ি কিংবা ব্যাক্তি পর্যায়ে অন কল/হোম সার্ভিস প্রক্রিয়ায় এসি/ফ্রিজ মেরামত/সার্ভিসিং, বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মেরামত/সার্ভিসিং, প্লাম্বিং, স্যানিটারি, সাইকেল/মোটরসাইকেল মেরামত/সার্ভিসিংসহ ইত্যাদি সেবা প্রদান করা। প্রশিক্ষিত কাওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীগণ উক্ত সেবা প্রদান কেন্দ্রের দক্ষ সেবা কর্মী হিসেবে নিয়োজিত থাকবেন।
  3. প্রশিক্ষিত শিক্ষার্থীদের আত্মকর্মসংস্থানে সহায়তা করা হবে।
  4. ভবিষ্যতে প্রশিক্ষিত শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে উচ্চতর TVET (Technical and Vocational Education  and Training) প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থান লাভে সহায়তা করা হবে।   

 

গ্রামীণ উন্নয়নে প্রকল্পের/প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রমের প্রভাব ও গুরুত্ব:

প্রায়োগিক গবেষণাটি সম্পূর্ণ নতুন এবং কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য এধরনের উদ্যোগ এটিই প্রথম। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই গ্রামাঞ্চল থেকে আগত এতীম কিংবা অসহায় শিশু। কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে কর্মে নিয়োজিত হলে ধর্মীয় কাজের পাশাপাশি তাঁরা স্বাবলম্বী হয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে। পরিক্ষামূলক প্রকল্পটি সফল হলে সরকারের কারিগরি প্রশিক্ষণ নীতিমালায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন সাধন করা সম্ভব হবে। জাতীয়ভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হলে কওমি মাদ্রাসার লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীগণ এ থেকে উপকৃত হতে পারবেন। প্রকল্পটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৪.৩, ৪.৪ এবং ৪.৫ অর্জনে সহায়তা করবে।     

4.3 By 2030, ensure equal access for all women and men to affordable and quality technical, vocational and tertiary education, including university

 

4.4 By 2030, substantially increase the number of youth and adults who have relevant skills, including technical and vocational skills, for employment, decent jobs and entrepreneurship

 

4.5 By 2030, eliminate gender disparities in education and ensure equal access to all levels of education and vocational training for the vulnerable, including persons with disabilities, indigenous peoples and children in vulnerable situations



Share with :

Facebook Facebook