মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩rd অক্টোবর ২০১৭

লালমাই-ময়নামতি প্রকল্প

প্রকল্পের শিরোনাম 
“সমন্বিত কৃষি কর্মকান্ডের মাধ্যমে কুমিল্লার লালমাই ময়নামতি পাহাড়ি এলাকার জনগণের জীবন জীবিকার মানোন্নয়ন (একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের বার্ড অংশ)” 
১। প্রকল্পের প্রেক্ষাপট
লালমাই-ময়নামতি এলাকার জনগণের আর্থিক দূরবস্থার কথা বিবেচনা করে মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব আ হ ম মুসত্মফা কামাল, এমপি’র পরামর্শ মোতাবেক বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) কর্তৃক “সমন্বিত কৃষি কর্মকান্ডের মাধ্যমে কুমিল্লার লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ি এলাকার জনগণের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন’’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের প্রথমদিকে প্রণয়ন করা হয়। প্রকল্পটি অনুমোদনের বিভিন্ন পর্যায় মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয়ের সদয় হস্তক্ষেপে অবশেষে ২১.১১.২০১৬ খ্রিস্টাব্দে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন প্রাপ্ত হয় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আদলে এবং উক্ত প্রকল্পের আওতায় এটি বাসত্মবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এ প্রকল্প জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়ার আকাঙ্খা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বার্ড ষাটের দশক হতে এ পর্যমত্ম বিভিন্ন প্রায়োগিক গবেষণা বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা প্রয়োগের মাধ্যমে লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ি এলাকার জনগণের দারিদ্র হ্রাসকরণের মাধ্যমে জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
২। প্রকল্পের মূল ও সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষিক্ষেত্রে বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ী এলাকার জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি সাধন। প্রকল্পের সুনিদিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ হলো: 
 (১) জৈব কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষির উৎপাদনশীলতা সংরক্ষণ; 
(২) কৃষি খামারকরণবিষয়ক বহুমুখি কর্মকান্ড গ্রহণ; 
(৩) উন্নত জাতের গবাদি প্রাণি/গাভী/হাঁস-মুরগি ইত্যাদি পালন তরান্বিত করা;
(৪) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৎস্য চাষ বৃদ্ধি করা;
(৫) ভূ-গর্ভস্থ পানি সরবরাহ ও ব্যবহার পদ্ধতির উন্নয়ন সাধন করা; 
(৬) কৃষিজাত পণ্যের বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় লিংকেজ স্থাপন; এবং 
(৭) প্রকল্প এলাকার জনগণের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নের মূল্যায়ন করা। 

৩। প্রকল্প এলাকা :     কুমিল্লা জেলার তিনটি উপজেলার (আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ ও বুড়িচং), ০৮টি ইউনিয়নের ৬৭টি গ্রাম।
৪। প্রকল্পের বাজেট :     ৫০৫৫.০০ লক্ষ টাকা
৫। প্রকল্পের মেয়াদ:     জুলাই ২০১৬ – জুন ২০২০ 
অর্থায়নকারী সংস্থা :     জিওবি 
প্রকল্পের উদ্দেশ্য :     সমন্বিত কৃষি কর্মকান্ডের মাধ্যমে কুমিল্লার লালমাই ময়নামতি পাহাড়ী এলাকার গ্রামীণ জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন সাধন করা। 
৬। প্রকল্পের মূল কার্যক্রমসমূহ:
•    খানা জরিপ এবং তথ্যভান্ডার সৃজন
•    উপকারভোগী নির্বাচন এবং গ্রাম সংগঠন সৃজন
•    ভার্মিকালচার/কেঁচোসার/কম্পোস্ট তৈরির অভিযুজ্যতা পরীক্ষা
•    পিআরএইচ (PRH)-এর অভিযুজ্যতা/সম্ভাব্যতা পরীক্ষা
•    ধৈঞ্চা ও শনপাট দিয়ে সবুজ সার করণের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা
•    সর্বাধুনিক জাতের ধান বীজ সরবরাহ এবং বীজ বিনিময় কর্মসূচির সম্ভাব্যতা পরীক্ষা
•    সর্বাধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা
•    মৌচাষের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা
•    উন্নত সবজি বীজ/চারা সরবরাহ বিষয়ক পরীক্ষা
•    মাশরম্নম চাষের সম্ভাব্যতা বিষয়ক পরীক্ষা
•    উন্নত জাতের ফল চাষের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা
•    নার্সারি স্থাপনের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা
•    উন্নত জাতের হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ক পরীক্ষা 
•    উন্নত জাতের গরু/গাভী পালন বিষয়ক পরীক্ষা
•    উন্নত জাতের গো-খাদ্য/সবুজ ঘাসের বীজ/কাটিং সরবরাহ বিষয়ক পরীক্ষা
•    বৈজ্ঞানিক উপায়ে স্থানীয় এবং উন্নত জাতের মাছের চাষ বিষয়ক পরীক্ষা
•    সেচের জন্য সৌরপ্যানেল ভিত্তিক অগভীর নলকূপ (STW) স্থাপন বিষয়ক পরীক্ষা
•    সেচের পানির দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরীক্ষা
•    কৃষিজ পণ্যের বিপণন প্রক্রিয়া উন্নয়নপূর্বক ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ বিষয়ক পরীক্ষা
•    আয়বর্ধক কর্মকান্ডের জন্য দরিদ্র সুফলভোগীদের বিশেষ অনুদান প্রদান
•    দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান
•    গবেষণা এবং উন্নয়ন
•    জাতীগঠনমূলক বিভাগগুলোর সাথে সুফলভোগীদের কার্যকরী সংযোগ এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে পারষ্পরিক সমন্বয় সাধন
•    পিয়ার লার্নিং-এর প্রচলন করা

প্রশিক্ষণ 
১.    প্রকল্প পরিচিতি ও কার্যক্রম অবহিতকরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ
২.    বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৎস চাষ
৩.    ফসল উৎপাদনে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা
৪.    উচ্চ ফলনশীল সবজি বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ 
৫.    উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
৬.    নার্সারী ব্যবস্থাপনা
৭.    আধুনিক পদ্ধতিতে হাঁস-মুরগী পালন
৮.    বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফল চাষ
৯.    বৈজ্ঞানিক পদ্বতিতে গবাদি প্রাণি/ গাভী পালন
১০.    মৌমাছি পালন
১১.    কোঁচো সার উৎপাদন
১২.  মাশরুম চাষ

 
প্রকল্প এলাকার সম্ভব্য সুফলভোগীগণের সাথে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অনুষদ সদস্যদের মতবিনিময়


 প্রকল্পের সূচনা কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন বার্ডের মহাপরিচালক মুহম্মদ মউদুদউর রশীদ সফদার।
 
সূচনা কর্মশালায় প্রকল্প কার্যক্রম উপস্থাপন করছেন উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম।
 
সূচনা কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন এবাএখা প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক জনাব মোঃ নজির আহমদ। 
 
সূচনা কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ গোলাম সারওয়ার।
৭। প্রকল্প বাস্তবায়ন কৌশল (সংক্ষেপে)
প্রকল্পভুক্ত ৬৭টি গ্রামের প্রায় ২০,০০০.০০ (বিশ হাজার) খানার ভিত্তি জরিপ করে প্রতিটি গ্রামের জন্য পৃথক পৃথক তথ্য বই প্রণয়ন করা হবে। ভিত্তি জরিপের উপর নির্ভর করে প্রতিটি গ্রামে “একটি বাড়ি একটি খামার” প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত নির্ধারিত মানদন্ড অনুযায়ী কমপক্ষে একটি করে ‘গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন’ গড়ে তোলা হবে। গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন সৃজনের পর সদস্যদেরকে মাসে ২০০.০০ টাকা হারে সঞ্চয় জমা করণে উদ্ভুদ্ধ করা হবে এবং অনলাইনে সমপরিমাণে উৎসাহ বোনাস সদস্যদের একাউন্টে ০৩ (তিন) মাস পর পর ২ বছর পর্যন্ত জমা করা হবে। এ ছাড়া এ সদস্যদের মধ্যে ঋণ কর্মসূচি চালুকরণের লক্ষে বছরে ১.৫০ লক্ষ করে ২ বছরে মোট ৩.০০ (তিনলক্ষ) টাকা গ্রাম উন্নয়ন সংগঠনকে প্রদান করা হবে। সংগঠনভুক্ত অতি দরিদ্র ৩০০০ সদস্যকে সর্বোচ্চ ২৫০০০.০০ টাকা করে আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ অনুদান প্রদান করা হবে। গ্রাম উন্নয়ন সংগঠনের সদস্যদের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নের জন্য ৮/১০ রকমের প্রশিক্ষণ প্রদান করে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আধুনিক উপকরণ, কৃষি প্রযুক্তি ও পরামর্শ সেবা প্রদান করা হবে। 

তাছাড়াও প্রকল্পভুক্ত এলাকায় খরচ ভাগাভাগি পদ্ধতিতে (প্রকল্প থেকে ৭০%, সুফলভোগীকর্তৃক ৩০%) মোট ৪০টি নার্সারী স্থাপন করা হবে। একই পদ্ধতিতে (প্রকল্প থেকে ৮০% সুফলভোগীকৃত ২০%) ধান রোপণের জন্য ৫টি ট্রান্সপ্লান্টার, ৫টি ধান কাটার যন্ত্র (রিপার) প্রদান করা হবে। সংগঠন পর্যায়ে খরচ ভাগাভাগী পদ্ধতিতে (প্রকল্প থেকে ৮০%, সুফলভোগীকর্তৃক ২০%) সৌরশক্তি চালিত ১০টি অগভীর নলকূপ প্রকল্প এলাকায় স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের সুফলভোগীদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের মূল্য নিশ্চিত করণের লক্ষে শহরের ডিপাটমেন্টার স্টোর/পাইকারী ক্রেতাদের সাথে সংযোগ সৃষ্টি করিয়ে দেয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় ১০টি গবেষণা বাস্তবায়ন করা হবে যেগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ২/৩টি এমএস/পিএইচডি পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের গবেষণা সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হবে। 


Share with :
Facebook Facebook